1. Sohelhota@gmail.com : জি এম ফয়সাল : জি এম ফয়সাল
  2. helalnc22@gmail.com : Helal Uddin : Helal Uddin
  3. daynikbanglarkota@gmail.com : M.O. Telecom : M.O. Telecom
  4. rana016482@gmail.com : মোঃ মাসুদ রানা : মোঃ মাসুদ রানা
  5. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  6. nabsar775@gmail.com : Nurul Absar : Nurul Absar
  7. mdosmank143@yahoo.com : Mohammad Osman : Mohammad Osman
  8. mdosmank143@gmail.com : মোহাম্মদ ওসমান : মোহাম্মদ ওসমান
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

কবি -মৌমিতা রাবেয়া কবিতা – স্যর । দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।

রিপোর্টার মোঃ মিরাজ হোসেন।
  • আপডেটের সময়ঃ শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

কবি -মৌমিতা রাবেয়া
কবিতা – স্যর

স্যর

তেরো নং ঘর
আপনি তন্ময় হয়ে পড়িয়ে যাচ্ছিলেন…

” কথাগুলি যদি বানানো হয় দোষ কী,
কিন্তু চমৎকার –
হীরে-বসানো সোনার ফুল কি সত্য, তবুও কি সত্য নয়। ‘ ”

আপনার জর্দার গন্ধ
নরেশের বলা কথাগুলি
মস্তিষ্কের গলিপথ পেরিয়ে
যখন রাজপথের খোঁজে পা বাড়িয়েছে-

আপনার কন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে

” মন যায় না সত্যের খোঁজে,
আমরা বিকিয়ে যাই মরীচিকার দামে। ”

সেদিনের মতো ক্লাস শেষ
করিডরে ধুতি পাঞ্জাবি কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে আপনি চলেছেন—


‘ ইতস্তত আমি, ধুকপুক বুকে পিছন থেকে—

‘ সত্যের খোঁজে,
আমরা বিকিয়ে যাই মরীচিকার দামে। ‘
কিভাবে স্যর?

মুচকি হেসে
ঘাড় ঘুড়িয়ে বললেন,
“আমরা রোজ সত্যের খোঁজে পথ চলি….
নিজেকে কখনো বিকিয়ে যেতে দিস না। ”

” কবি সাহিত্যিকরা হলেন
সত্যদ্রষ্টা —
তাদের সৃষ্ট সাহিত্যে
তারই প্রতিফল ”

সেই থেকে আপনি হলেন
আমার ঈশ্বর
যার প্রতিটি কথা
জীবন দিয়ে উপলব্ধি করেছি।

আপনি সব সময় বলতেন-

“প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়াবি-
চোখে চোখ রেখে মাথা উঁচু করে তাকাবি
জীবনে কোনো দিন যেন নিজের কাছে
মুখ লুকাতে না হয়,
নিজেকে হেরে যেতে দিবি না কখনো। ”

আপনার সব কথা
সেই কাঁচা বয়সে বুঝি নি –

আজ বুঝি
আয়নায় চোখে চোখ রাখা
অতো সহজ নয়! স্যর —
ক্রমশ একা হয়ে যেতে হয়
কেউ পাশে থাকে না স্যর
কেউ না…

প্রতিনিয়ত মানিয়ে নিতে গিয়ে
দম বন্ধ হয়ে আসছে স্যর !
মনে হচ্ছে তলিয়ে যাচ্ছি;

স্যর
বারে বারেই মনে হয়,
আপনার কথা রাখতে পারছি না।
চোখদুটো কে বাঁচিয়ে রাখতে পারছি না।
সত্য -সুন্দর কোনো কিছুই
আজ আর ধরা পড়ছে না!
অবিশ্বাসের বালিতে কড়কড় করছে।

যখনই মন চঞ্চল হয়ে ওঠে
আপনার কণ্ঠ শুনতে পাই

“কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল ।।”

কেমন আছেন? স্যর
আমি ভালো নেই…
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারছি না
বিকিয়ে যাচ্ছি!
টিকে থাকার লড়াইয়ে
সিকি পয়সার দরে।

কী ভীষণ মিস করি
স্যর আপনাকে।
” লক্ষ্মী পুজোর পর দশমী থাকে না। ”

কেউ অভিমানের সুরে আর বলে না।
এখন দশমীগুলিও কেমন শ্রীহীন মনে হয়।

জানেন স্যর
এখন একটা সুবিধা হয়েছে —
এখন টেনশন থাকে না
স্যরের বাড়ি যাওয়া হচ্ছে না।
এবার বকা খাবো,
” খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছিস
কবে যেন এসেছিলি…”
আমি ‘না মানে স্কুলের কাজ ছিল একটু.. ‘

এখন যখন ইচ্ছা আপনার সাথে গপ্প করি
নববর্ষ, দশমী স্যর মিস হয় না।
ঘটা করে শিক্ষক দিবস মনে মনে পালন করি। সামনাসামনি কোনো দিনই করি নি।
আদব কায়দা কোনোদিনই পছন্দ নয় আপনার।
তবু
এখন করি স্যর,
জানি, সামনে আসলেই রেগে যাবেন।
বলবেন,
! বাইরে বাইরে খুব কেতা শিখেছিস
ভেতরে পচন ধরে নি তো…
বাইরে টা বেশিদিন থাকে না.. ”

কিন্ত স্যর সবাই যে বাইরেটাই দেখে
ভেতরটা পচে গলে
দুর্গন্ধ বেরলেও
কেউ
খোঁজ নেয় না।
কেউ না।

আপনার দেওয়া সঞ্চয়িতা
আমার পথের পারানি।
আপনার উচ্চারণ
আমার বেঁচে থাকার শক্তি।

“আমারে তুমি করিবে ত্রাণ এ নহে মোর প্রার্থনা–
তরিতে পারি শকতি যেন রয়।
আমার ভার লাঘব করি নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।”

মৌমিতা রাবেয়া

২৮/০৮/২০২১
১০ঃ৫০ সকাল

লেখাটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো লেখা
© ২০২১ বাংলার কথা । এম.ও. টেলিকম কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব স্বত্ত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized BY LatestNews