1. Sohelhota@gmail.com : জি এম ফয়সাল : জি এম ফয়সাল
  2. helalnc22@gmail.com : Helal Uddin : Helal Uddin
  3. daynikbanglarkota@gmail.com : M.O. Telecom : M.O. Telecom
  4. rana016482@gmail.com : মোঃ মাসুদ রানা : মোঃ মাসুদ রানা
  5. miraz55577@gmail.com : মোঃ মিরাজ হোসেন : মোঃ মিরাজ হোসেন
  6. nabsar775@gmail.com : Nurul Absar : Nurul Absar
  7. mdosmank143@yahoo.com : Mohammad Osman : Mohammad Osman
  8. mdosmank143@gmail.com : মোহাম্মদ ওসমান : মোহাম্মদ ওসমান
মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

সাইবার অপরাধীর ব্যতিক্রমী জীবনদর্শন। লেখক: ড. সঞ্জীব রায়।দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেটের সময়ঃ সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

সাইবার অপরাধীর ব্যতিক্রমী জীবনদর্শন।
লেখক: ড. সঞ্জীব রায়
তারিখ: ০৯/০৮/২০২১

।। এক সাইবার অপরাধীর ব্যতিক্রমী জীবনদর্শন।।

হামজা বেনদেলাজ নামটা অনেকের কাছেই বেশ চেনা। বিশেষ করে যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত তাঁরা কিছুদিন আগেই একটা ছবি ভাইরাল হতে দেখেছেন। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছিল, দুজন যুবককে প্রকাশ্যে গলায় দড়ি পড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেবার ঠিক আগের মুহূর্ত। ছবিটি ৫ই জুন, ২০২০, শুক্রবার ফেসবুক মারফত জনগণের গোচরে আনা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ৪ হাজার বার শেয়ার হয়। আশ্চর্যজনকভাবে ঐ একই ছবি ২০১৭ সালের ২রা জুন সোশ্যাল মিডিয়ায় আনা হয়েছিল, যা কিনা ১,৪০,০০০ বার শেয়ার হয়েছিল। উভয় ক্ষেত্রেই ছবি দেখিয়ে বলা হয় হামজা বেনদেলাজকে সঙ্গীসহ ফাঁসি দেবার প্রস্তুতি চলছে। নিশ্চিত ভাবেই সেই তথ্য ছিল সর্বৈব মিথ্যা। অবশ্য এই রকম মিথ্যাচার সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে নতুন কিছু নয়। প্রকৃতপক্ষে দুটো ছবিই (২০১৭ ও ২০২০ সালের) ছিল ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় তোলা মজিদ কেভয়সিফার (Kavousifar) ও তাঁর ভাইপোর। এক স্বনামধন্য বিচারককে হত্যার অপরাধে এই দুজনকে প্রকাশ্যে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়। সেই ছবি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্বের নামকরা সংবাদ সংস্থার মারফৎ ছড়িয়ে পড়ে। উক্ত সংবাদ সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল BBC। অন্যদিকে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে, হামজা বেনদেলাজ ব্যক্তিটি কে? তিনি নিঃসন্দেহে একজন বর্ণময় ও বিতর্কিত চরিত্র হলেও তিনি জনপ্রিয় তাঁর গরীব-দরদী ভাবমূর্তির জন্য। আসুন তাঁর সম্বন্ধে কিছু জানা যাক।

আলজেরিয়ায় হামজার জন্ম ১৯৮৮ সালের জানুয়ারি মাসে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি সম্পর্কে আশ্চর্য রকম পাণ্ডিত্য নজরে আসে। পাড়াপড়শী ও আত্মীয় স্বজনরা (ঠাট্টা করেই) হামজাকে ইলেকট্রনিক বিজ্ঞানী’ আখ্যা দেন। একটু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান সবাইকে অবাক করে দিতে থাকে। কম্পিউটার নিয়ে তাঁর নানারকম পরীক্ষা নিরীক্ষায় বাস্তবিকই সবাই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। স্কুলের গণ্ডি অতিক্রম করে হামজা উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন। ততদিনে অসাধারণ ছেলেটি পাঁচটি ভাষা বলতে ও লিখতে শিখে গেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর যে কোনো কারণেই হোক হামজার খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। বেশ কয়েক বছর পর তাঁর সম্পর্কে যে তথ্য প্রকাশ্যে আসে তা’ সত্যিই ভয়াবহ। হামজা ২১৭টি ব্যাঙ্ক হ্যাক করে ৪ হাজার মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন। বলা বাহুল্য, এটি সরকারি হিসেব। বেসরকারি হিসাবে টাকার অঙ্ক এখনো অজানা। এছাড়াও তিনি তাঁর রাশিয়ান সহকর্মীর সঙ্গে এক হয়ে অসাধারণ নৈপুণ্যে এয়ার ফ্রান্স, ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব হ্যাক করেন। এখানেই শেষ নয়। বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে যায় যখন জানতে পারে যে, হামজা ইজরায়েলের সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছেন, বাস্তবিকই যা অসাধ্য বলে মনে করা হতো। জানা যায় যে তাঁর সংকেত নাম (Code Name) ছিল BX1। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভীষণ হাসিখুশি ও মজার মানুষ ছিলেন হামজা। তাই বিশ্বের হ্যাকার মহলে তিনি পরিচিত ছিলেন “Smiling Hacker” নামে।

সত্যিকথা বলতে, ২০১০ সাল থেকেই ইন্টারপোল ও FBI আদাজল খেয়ে তাঁর পিছনে পড়ে যায়। তাঁকে ধরার সর্বাঙ্গীণ প্রচেষ্টা শুরু হলেও অত্যন্ত বুদ্ধিমান মানুষটির নাগাল পাওয়া কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিল না। শেষে বহু চেষ্টার পর ২০১৩ সালের ৮ই জানুয়ারি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককে ধরা পড়ে গেলেন হামজা। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, তাঁর কাছ থেকে কোনো অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হবে কি করে? বিপুল পরিমাণ টাকা যা হামজা সরিয়েছিলেন, তাঁর সিংহভাগই তিনি আফ্রিকা ও প্যালেস্টাইনের সহায় সম্বলহীন দরিদ্র মানুষজনের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছেন। এই কাজ করার জন্য তাঁর নিজের হাতে তৈরি করা কিছু NGO ছিল যারা বেনামে টাকা ও সাহায্য পৌঁছে দিত নির্দিষ্ট জায়গায়। সেখানেও হামজার অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতায় ইন্টারপোল সহ সকলে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায়। না খেতে পাওয়া হতদরিদ্র মানুষজনের কাছে তিনি ছিলেন “আধুনিক রবিনহুড”, যিনি ধনীর ধন ছিনিয়ে নিয়ে গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে পারেন।

ব্যক্তিগত ভাবে হামজা একেবারে অনাড়ম্বর জীবনযাত্রাই পছন্দ করতেন। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখা দরকার যে বিশ্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ হ্যাকারের মুকুটটি যাঁর মাথায় তিনি একজন ব্রিটিশ। নাম গ্যারি ম্যাকিনমন (Gury MucKinmon)। শোনা যায়, তিনি যখন যেমন খুশি তেমন ভাবে হ্যাক করতে পারেন। কিন্তু হামজা তাঁর ধারেকাছে ছিলেন না ভাবা ভুল। ইন্টারপোল তাঁকে বিশ্বের প্রথম দশ জনের তালিকায় রাখে। হামজার কল্যাণে পৃথিবীতে ৬০ মিলিয়ন কম্পিউটার ভাইরাসের ধাক্কায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অবশ্য তার সিংহভাগই ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। শোনা যায় “Spy Eye Botnet” নামক এক বিশেষ ভাইরাসের সাহায্যে তিনি এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।

কম্পিউটারের মাধ্যমে হ্যাক করার ক্ষমতা তো হামজার বিশ্বখ্যাত। কিন্তু ব্যক্তি জীবনেও তিনি কম বড় হ্যাকার ছিলেন না। তিনি হ্যাক করেছিলেন এক বনেদী পরিবারের সুন্দরী কন্যাকে। অবশ্য সেই কন্যার অকপট স্বীকারোক্তি “অমন মানুষটিকে না ভালোবেসে পারা যায় না।” তাঁদের দুজনের সংসারে এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্মায়। ২০১৩ সালের ৮ই জানুয়ারি যখন তাঁকে ধরা হল তখন হামজা বিন্দুমাত্র বাধা দেননি। তিনি যাচ্ছিলেন স্ত্রী-কন্যা সহ মিশরের দিকে। হামজাকে ধরে নিয়ে ইন্টারপোল মার্কিন মুল্লুকের দিকে পাড়ি দেয়। অন্যদিকে হামজার স্ত্রী কন্যা বিষণ্ন মনে যাত্রা করেন মিশরের দিকে। স্বামী স্ত্রী দুজনেই প্রস্তুত ছিলেন, এটা যে হবারই ছিল।

মার্কিন দেশ সহ বিশ্বে সাইবার অপরাধ মৃত্যুদণ্ড পাবার মত অপরাধ নয়। সুতরাং কোনোদিনই হামজার মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনা নেই। আপাতত তিনি বিচারকের রায় অনুযায়ী ২০১৩ সালের মে মাস থেকে ১৫ বছরের জন্য হাজতবাস করছেন। শোনা যায়, বিচার চলাকালীন আদালতে তিনি কোনো উকিলের সাহায্য নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। আদালত চত্বরেও তিনি ছিলেন সর্বদাই হাসিখুশি এবং নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একেবারে নির্লিপ্ত ও উদাসীন।

মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে হামজার জেলের বাইরে আসা আর কোনোদিনই সম্ভব হবে না। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এক মামলার রায়ে হল ১৫ বছর জেল। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই হয়ত অন্য কোনো মামলার রায়ে তাঁকে আবার হাজতে ফিরে যেতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী একজন অপরাধীর সর্বাধিক ৬৫ বছর পর্যন্ত হাজতবাস হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই আইনের সদব্যবহার করবে না- সেটা ভাবাই সম্পূর্ণ ভুল।

পরিশেষে বলি, হামজা বেনদেলাজ নামক এক অসাধারণ প্রতিভার অপমৃত্যু ঘটল যা নিতান্তই দুঃখ ও অনুতাপের। তবে নিঃসন্দেহে হামজা এক ব্যতিক্রমী সাইবার অপরাধী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিলেন। অন্যদিকে মানুষটি অপরাধী হয়েও অন্নদাতা হিসেবে নিরন্ন মানুষদের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলেন চিরদিনের জন্যই।

লেখাটি শেয়ার করুন

One thought on "সাইবার অপরাধীর ব্যতিক্রমী জীবনদর্শন। লেখক: ড. সঞ্জীব রায়।দৈনিক বাংলার কথা অনলাইন।"

  1. Oindrila Banerjee says:

    Khub bhalo laglo.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো লেখা
© ২০২১ বাংলার কথা । এম.ও. টেলিকম কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব স্বত্ত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized BY LatestNews